আত্মা ও দেহ নিয়ে মানুষ। মানুষের যেরূপ দৈহিক রোগ-ব্যাধি রয়েছে, তেমনি আছে আত্মিক রোগ-ব্যাধি। আত্মার তুলনায় দেহের মূল্য কতটুকু? আত্মা জড় দেহে প্রাণ সঞ্চার করে। আত্মাহীন দেহ একটি লাশ; মূল্যহীন বস্তু। আমরা এ দেহের অনেক ভয়ানক রোগের কথা জানি, আত্মার তুলনায় মূল্যহীন হওয়া সত্ত্বেও যদি দেহের এত মারাত্মক রোগ-ব্যাধি থাকে, তাহলে আত্মার রোগ-ব্যাধি কত মারাত্মক হবে? দৈহিক রোগ-ব্যাধি হল সর্দি-জ্বর, আমাশয়, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ইত্যাদি। আত্মার রোগ হল অহংকার, হিংসা, বিদ্বেষ, পরচর্চা, পরনিন্দা, লোভ, প্রতিশোধ পরায়ণতা, মিথ্যাচার ইত্যাদি। দৈহিক রোগ-ব্যাধির জন্য আমরা চিকিৎসা গ্রহণ করি, আত্মিক রোগ-ব্যাধির চিকিৎসাও গ্রহণ করাও একটি অপরিহার্য বিষয়।
আম্বিয়ায়ে কেরামের নবুয়তের অন্যতম দায়িত্ব ছিল তাঁর অনুসারীদেরকে আত্মিক রোগ-ব্যাধি থেকে পরিচ্ছন্ন করা। কুরআানুল কারীমের সূরা বাকারার ১২৯, আল- ইমরানের ১৬৪, আল-জুমআর ২নং আয়াতে এ দায়িত্বের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা যে সব বিষয়ের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য শপথ করেছেন, তন্মধ্যে আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব বোঝানোর জন্য শপথ করেছেন সব চেয়ে বেশি। দেখুন ৯১ নং সূরা আশ-শামস; সাতবার শপথ করার পর আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘যে আত্মশুদ্ধি অর্জন করেছে, সে অবশ্যই সফলকাম হয়েছে। আর যে তার প্রতি উদাসীন রয়েছে, সে অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
সাফল্য ও ব্যর্থতার মাপকাঠি সবার দৃষ্টিতে এক নয়, এ কথা ঠিক কিন্তু সফলতার যে সংজ্ঞা স্বয়ং স্রষ্টা নির্ধারণ করে দিয়েছেন সেটাই যে একমাত্র মাপকাঠি এতে কোন সন্দেহ নেই। কুরআনে কারীমের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তা’আলা আত্মশুদ্ধি অর্জনকে চূড়ান্ত সফলতা বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু গভীর পরিতাপের বিষয় হচ্ছে দ্বীনের অন্য কোন শাখা এর মত উপেক্ষিত নয়। মুসলমানদের কোন স্তরেই আজ এর যথাযথ চর্চা নেই। পরিণামে মুসলিম উম্মাহ আজ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন। ইসলামপূর্ব যুগের বর্বরতা, অশ্লীলতা ও খোদাদ্রোহীতার বিভীষিকাময় ছবি আমাদের সমাজ-রাষ্ট্রকে প্রতি নিয়ত হত বিহ্বল করে দিচ্ছে।
আত্মা হল চালক, বিস্ময়কর মানবদেহকে এ আত্মাই পরিচালিত করে। নেশাগ্রস্ত মাতাল চালক যেমন একাই ধ্বংস হয় না, গাড়ির আরোহীসহ আরো অনেককে ধ্বংস করে, তদ্রূপ কল্যাণের জন্য নিবেদিত মানুষ আত্মিক রোগ গ্রস্ত হলে কেমন ধ্বংসাত্বক হতে পারে, বিশ্বের বর্তমান ঘটনাবলী এর জলন্ত প্রমাণ।