বিশ্বসাহিত্যের আলমারিতে যুদ্ধের ওপর লেখা বইয়ের অভাব নেই। কিন্তু জার্মানির কিংবদন্তি লেখক আর্নস্ট ইয়ুঙ্গারের ‘স্টর্ম অব স্টিল’ (Storm of Steel) এমন এক সৃষ্টি, যা গত এক শতাব্দী ধরে পাঠকদের মোহগ্রস্ত করে রেখেছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরিখায় (trench) বসে লেখা লেখকের নিজস্ব ডায়েরি থেকে উঠে আসা এই কাহিনি কোনো সস্তা রোমাঞ্চ নয়; বরং এটি আধুনিক যুগের যুদ্ধগুলোর এক জীবন্ত দলিল।
১৯১৪ সাল। কোনো রকমে স্কুলের পরীক্ষাটা শেষ করেই তরুণ ইয়ুঙ্গার বিশ্বযুদ্ধে নাম লেখান। ১৯১৮ সাল পর্যন্ত তিনি পশ্চিম রণাঙ্গনের ভয়াবহতম যুদ্ধগুলোর সাক্ষী ছিলেন। এই চার বছরে তিনি অন্তত ১৪ বার অত্যন্ত গুরুতরভাবে আহত হন। তবুও থামেন নি।
এই দুঃসহ সময়গুলোতে ইয়ুঙ্গার রণক্ষেত্রের সেই ধুলো, কাদা আর বারুদের গন্ধের ভেতর খুঁজে ফিরেছেন মানুষের টিকে থাকার আদিম স্পৃহা।
তুলে ধরেছেন যুদ্ধের কারিগরি ও মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলোকে। তাঁর মতো করে আর কেউ এভাবে যুদ্ধ নিয়ে তাজা লেখা লিখতে পারেনি।
এ জন্যই ১৯২০ সালে প্রকাশের পর থেকেই বইটি বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
যখন হাজার হাজার কামানের গোলা আকাশ চিরে বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ত, তখন লোহা-লক্করের এই ঝড়ের নিচে সাহসী ইয়ুঙ্গার যে বীভৎস সৌন্দর্য দেখতে পেতেন, তা তুলে এনেছেন বইজুড়ে।