শেষরাত্রির গল্পগুলো
শেষরাত্রির গল্পগুলো প্রচলিত অর্থে কোনো গল্পগ্রন্থ নয়। বলা যেতে পারে একটি গল্পের আসর। এই আসরে লেখক ও পাঠক পরস্পর গল্প করবেন। গল্প করতে করতে আনমনা হবেন। গল্প করতে করতেই চিন্তা-প্রতিচিন্তায় ঋদ্ধ হবেন
এই বইয়ের উল্লেখযোগ্য-সংখ্যক প্রবন্ধগল্প লেখকের ব্যক্তিজীবন-ঘনিষ্ঠ। জীবন থেকে নেওয়া ছোট-বড় অভিজ্ঞতা, ভাবনা ও অনুভূতি এখানে মূর্ত হয়েছে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। সময়, বিষয়বস্তু, পূর্বাপর প্রেক্ষাপট ও উদ্দীষ্ট পাঠকের মনস্তত্ত্ব—এসবকিছু বিবেচনায় রাখলে প্রতিটি লেখা তার নিজস্ব ধাঁচেই বিশিষ্ট, নিজস্ব ছকেই স্বতন্ত্র। তাই বৈচিত্র্য লোপ না করে লেখাগুলোর চেহারা ও মেজাজ অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে এই বইয়ে। লেখাগুলোর ধরন ও প্রকৃতিতে বৈচিত্র্য আছে। কখনো হালকা চালে গল্পনির্ভর লেখা, কখনো তথ্যসূত্র ও টীকা-টিপ্পনীতে ভরপুর পুরোদস্তুর অ্যাকাডেমিক লেখার মতোই। কখনো চোখে পড়বে প্রবন্ধের মোড়কে গল্প বলার কোশেশ। অথবা গল্পের আবহে প্রবন্ধের অবতারণা।
বৃষ্টিমুখর রৌদ্রমুখর
বসন্ত এসেছে। পত্র-পল্লব ফিরে পেয়েছে প্রাণ, চারপাশে ফুলের ঘ্রাণ আর পাখির গান। শীতের নিষ্প্রাণতায় কদিন আগেই মৃতপ্রায় হয়ে যাওয়া প্রকৃতি এখন সজীবতায় মুখর। বসন্তের এই প্রাণ আমাদের প্রাণেও কি সঞ্চার হতে পারে?
.
আল্লাহর রাসূলের ﷺ কাছে ‘হৃদয়ের বসন্ত’ ছিলো কুরআন। আমাদের চিরচেনা বসন্তের আবহ সামনে রেখে হৃদয়েও বসন্তের আবাহন অনুভব করা যায় কীভাবে? নিসর্গের গল্প শোনাতে শোনাতে কুরআনের বসন্তকে ছোঁয়ার প্রণোদনা দিতে আপনার কাছে এসেছে আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীবের ব্যতিক্রমী গল্পপ্রবন্ধ ‘বৃষ্টিমুখর রৌদ্রমুখর’।
.
এই বইয়ের ফ্ল্যাপে থাকছে:
“বুকের খাতায় খুব যতনে
একটা স্বপন আঁকি
ফিরদাউসের ফুলবাগানে
আমি হবো পাখি।”
জোছনাফুল
জোছনা কি কখনো ফুল হতে পারে? ফুলটা দেখতে কেমন? এই ফুলের সুবাসই বা কীভাবে নিতে হয়? ‘জোছনাফুল’ সেই রহস্যের সুলুক সন্ধানে নামবে আপনার সাথে।
বইটা আপনাকে শুধু জোছনারাতের আসরে বসিয়ে রাখবে না; চন্দ্র-সূর্যকেও টেনে নিয়ে আসবে জীবনের পাঠশালায়। আপনি হবেন সেই পাঠশালার অংশীজন। সমুদ্রের পাড়ে কুড়াবে ভাবনার ঝিনুক, ঝিনুক থেকে বের করে আনবে বিশ্বাসের মুক্তো, আপনি সেই মুক্তোয় গাঁথবেন ভালোবাসার মাল্য।
‘জোছনাফুল’-এর বাগানে ফুটেছে আরও অনেক ফুল, এসেছে আরও অনেক ভ্রমর, গেয়েছে আরও অনেক পাখি। ফুল-পাখিদের এই কোলাহলে জীবনের অর্থ খুঁজে বেড়ায় কিছু চঞ্চল মৌমাছিও। সুন্দরের পরাগে ফুল ফোটানো, অসুন্দরের গায়ে হুল ফোঁটানো সেইসব মৌমাছিদের সাথেও জমবে আপনার নিবিড় আলাপন।
তারাফুল
আবদুল্লাহ মাহমুদ নজীব একজন স্বাপ্নিক সবুজ তরুণ। নিজের জীবনবোধ এবং জীবনদর্শন থেকে তিনি আমাদের জন্য কিছু পাঠ তুলে এনেছেন। জীবনের নিত্য পরিসরে, স্রষ্টার সান্নিধ্যে আসতে তিনি যে-উপায়, যে-দর্শন লালন করেন, সেই দর্শন পড়ে আগ্রহী পাঠকমাত্রই ভাববে, চিন্তা করবে―এমনটাই তিনি আশা করেন। তার সেই জীবনদর্শনের সমন্বিত রূপের নাম― ‘তারাফুল’। তারাফুলের মতো করে প্রস্ফুটিত হবে বিশ্বাসী হৃদয়গুলো―এমন প্রত্যাশা আমাদেরও।
মেঘপাখি
শীতকাল এলে একটা হাদীস খুব শোনা যায়, “শীত ঋতু মুমিনের বসন্তকাল।” (কারণ হিসেবে বলা হয়, শীতে দিন ছোটো, বেশি বেশি নফল সাওম রাখা যায়; রাতগুলো বড়, পর্যাপ্ত ঘুমিয়ে জায়নামাযে দাঁড়ানোর সুযোগও পাওয়া যায় বেশি।) এই হাদীস কারও কাছে শুনলে আমার মনে পড়ে দাদার কাছে শেখা একটা ফার্সি শের, যার অর্থ : “বসন্ত এসেছে বলে পাথরে তো আর ফুল ফুটবে না। রঙিন ফুল ফুটবে শুধু মাটিতে। ফুল যদি ফোটাতে চাও, মাটি হয়ে যাও।” অন্তরটা মাটির মতো নরম না হলে বসন্তের কোনো প্রভাব তাতে পড়বে না। যেমনটি আমি ও আমার মতো কিছু কাষ্ঠকঠিন হৃদয়ের মানুষের ক্ষেত্রে ঘটছে। বসন্তকে কাজে লাগিয়ে ইবাদাতের ফুল ফোটাতে চাইলে, আত্মশুদ্ধির সুঘ্রাণে মুখর হতে চাইলে হৃদয়টা নরম হওয়া চাই। চৌচির পাথুরে জমিনও বৃষ্টিবর্ষণের পর নরম হতে শুরু করে। আমরা যারা হৃদয়টা পাথরপ্রতিম বানিয়ে রেখেছি, এই ভরা-বসন্তে একপশলা বৃষ্টিবর্ষণের কোশেশ করতে পারি। এই বৃষ্টির জন্যে মেঘ দরকার। সেই মেঘের ঠিকানা খুঁজে পেতে আপনার সহযোগী হতে চায় ‘মেঘপাখি’।