ভূমিকা আমার শৈশবকালে আমরা যখনই পারিবারিকভাবে কোথাও পিকনিক করতে যেতাম খুব ছোটবেলা তেকেই সে সব পারিবারিক পিকনিকে অন্যান্য ছোট মেয়েদের মত ছোটাছুটি না করে,যে জায়গায় বড়রা রান্না করতো সে জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখতাম কিভাবে কি রান্না হচ্ছে। আর সে সময় এখনকার মত বাবুর্চি নিয়ে কেউ পিকনিক করতো না। সাধারণত বাবা,মা,চাচা,চাচিসহ অর্থাৎ বড়রাই একসাথে রান্না করতো। একটু বড় হবার পর আমার মনে আছে ছুটির দিনে আমার বাবা নিত্যনতুন খাবার রান্না করতেন আর আমি তার সহকারি হিসেবে খুব উৎসাহের সাথে রান্নায় সাহায্য করতাম। আমার মা অন্যান্য দিন রান্না করতেন। আমার মাও অনেক মাজার মজার খাবার রান্না করতেন। কিন্তু তার সাথে আমাকে রান্না ঘরে ঢুকতে দিতেন না। কিন্তু মজার মজার খাবার খাওয়ার পর মার কাছে জানতে চাইতাম এটা কি দিয়ে তৈরি হয়েছে। তখন কিন্তু আমার মা রান্নার রেসিপি বলতেন। তাই বলব একেবারে ছোটবেলায় আমার রান্নার প্রতি উৎসাহ শুরু হয়েছিল,বাবা ও মা দু’জনার কাছ থেকেই। একটু বড় হবার পর ভাইবোনের জন্য বিভিন্ন দরনের নাস্তা তৈরি করার মধ্য দিয়ে আমার রান্না শুরু। আমার বড় ভাই সাগর,ছোট ভাই প্রবাল ও ছোট বোন কাকলীর উৎসাহে এটা সেটা রান্না করলেই ওরা বলতো খুব মজা হয়েছে। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে আমি রান্না শুরু করি কুব ছোট বয়স থেকেই,আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি। পড়াশোনার সাথে রান্নাকে হবি হিসেবে নিয়েই বড় হলাম। যখন কলেজে পড়তাম সে সময় প্রতি সপ্তাহে ছুটির দিনে সাগর ভাই-এর বন্ধুরা আমাদের বাসায় দল বেঁধে আসতো। দুপুরে আমি রান্না করতাম। ভাল মন্দ যাই হোক সবাই বলতো খুব মজা হয়েছে। তার বন্ধুরা সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে আজ বহুল পরিচিত। তাদের মধ্যে আফজাল হোসেন ভাই,আলী ইমাম ভাই,মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভাই,আব্দুল মুক্তাদির মিনু ভাই,ইফতেখার ভাই,সাইখ সিরাজ ভাই,তাহমিনা সাহাবুদ্দিন ছন্দা আপা আরও অনেকে ছিলেন। এরা সবাই আমার রান্নার প্রশংসা করতেন। আমার বন্ধু মহলেও রান্নার জন্য সবাই আমাকে খুব সমাদর করতো। তারপর করেজের গণ্ডি পার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার কিছুদিনের মধ্যেই আমার বিয়ে হয়ে গেল। আমার স্বামী তখন লন্ডনে পড়াশোনা করতো। বিয়ের পর আমি লন্ডনে চলে যাই। বি.এ. পরীক্ষা দিয়ে ওখানে যাবার পর সবাই আমার রান্না খেয়ে বলতো- রান্নাগুলো খুব ভাল হয়েছে। আর সেই সাথে এটাও সবাই বলতো রান্নাগুলো একেবারে অন্যরকম,সবার চেয়ে আলাদা। ইংল্যান্ড থেকে আমরা তারপর আমেরিকার টেক্সসে চলে যাই। সেখানে আমার স্বামীর বন্