সুমিষ্ট নামটা শুনেই আদহাম কেমন উদাস হয়ে গেলেন। ভাবলেন, গুলে
জান্নাত! আহ! কী সুন্দর নাম, গুলে জান্নাত, সত্যিই গুলে জান্নাত।
বেহেশতের ফুল না হলে কী আর এত সুন্দর হয়। শাহজাদীকে জগতের
কোনো ফুলের সংগে তুলনা করা চলে না। গোলাপ ফুলের সংগেও না, পদ্ম
ফুলের সংগেও না। করলে শাহজাদীর রুপের অবমাননা করা হয়।
আল্লাহর পাগল বনবাসী দরবেশ শাহজাদীর প্রেমে উন্মাদ হয়ে সবকিছু ভুলে গেলেন। তিনি দ্রুতগতিতে শাহী প্রাসাদের দিকে ছুটে চললেন।
এরপর গুলে জান্নাত, হায় গুলে জান্নাত! হায় গুলে জান্নাত! করে করে
কতো যে বিপাকের সম্মুখীন হলেন আদহাম। তা-ও তাঁর মুখের বোল
পাল্টালো না, কেবলি গুলে জান্নাত! গুলে জান্নাত! জপতে লাগলেন!
সেভাবে আমিও গতকাল মাইয়েচিংয়ের মুখোচ্ছবি প্রথম পলক দেখার পর
থেকেই কতোবার যে ‘মাইয়েচিং’-মাইয়েচিং' জপেছি তার কোনো ইয়ত্তা
নেই। তবে আমার বেলায় সমস্যা- মেয়েটা উপজাতি ।
হোক উপজাতি । হোক ভিনধর্মী। আমি যদি সত্যিই ভালোবেসে থাকি আর যদি আমার কোনো যোগ্যতা থেকে থাকে তবে আমার ভালোবাসা, আমার সেই যোগ্যতা দিয়ে মেয়েটাকে আমার স্বজাতে ফিরিয়ে আনবো, আমার স্বধর্মে ফিরিয়ে আনবো। আর তেমনটা যদি করতে পারি তবে সেই তো আমার ভালোবাসার পরম স্বার্থকতা। হ্যাঁ, হ্যাঁ আমাকে তাই করতে হবে। আমার এ ভালোবাসার কথা মাইয়েচিংকে জানাতে হবে, বোঝাতে হবে ।