মা-বোনদের ইসলাহী বয়ান
লেখক: শায়খ মুফতী হাফীজুদ্দীন দা.বা.
“মা-বোনদের ইসলাহী বয়ান” নামটির মাঝেই যেন লুকিয়ে আছে এক গভীর দরদ, মমতা ও আত্মশুদ্ধির আহ্বান। এটি কেবল একটি বই নয়; বরং বর্তমান ফেতনা-ফাসাদে পরিপূর্ণ সময়ের ক্লান্ত, অবহেলিত ও দিশেহারা নারীসমাজের জন্য এক আন্তরিক নসীহতের পয়গাম। লেখকের হৃদয়নিঃসৃত কথাগুলো বইটির প্রতিটি পাতায় এমনভাবে ছড়িয়ে আছে, যেন একজন স্নেহশীল অভিভাবক নিজের পরিবারের আপনজনদের উদ্দেশ্যে দরদভরা ভাষায় জীবন গঠনের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
আজকের যুগে আধুনিকতা ও প্রগতির মোহে পরিবারব্যবস্থা, লজ্জাশীলতা, পর্দা, দাম্পত্য সৌন্দর্য ও আত্মিক প্রশান্তি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। নারীকে সম্মানের আসন থেকে নামিয়ে কেবল বাহ্যিক চাকচিক্যের প্রতীকে পরিণত করার এক ভয়াবহ প্রবণতা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ঠিক এমন সংকটময় মুহূর্তে “মা-বোনদের ইসলাহী বয়ান” যেন এক নির্মল আলোর প্রদীপ হয়ে পথ দেখায়। বইটি একজন নারীর জীবনের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে স্পর্শ করেছে অত্যন্ত বাস্তবমুখী ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায়।
বইটির অন্যতম সৌন্দর্য হলো - এখানে শুধুমাত্র তাত্ত্বিক আলোচনা নয়; বরং পারিবারিক জীবন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, সন্তান লালন-পালন, পর্দা, আখলাক, আত্মশুদ্ধি, দুনিয়ার মোহ থেকে বাঁচার উপায় এবং আখিরাতমুখী জীবন গঠনের বাস্তব নির্দেশনা অত্যন্ত সহজবোধ্যভাবে তুলে ধরা হয়েছে। লেখক এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা সাধারণ মা-বোনদের হৃদয়ে সহজেই নাড়া দেবে। কোথাও কঠোরতা নয়; বরং প্রতিটি বাক্যে অনুভূত হয় এক গভীর মমতা ও কল্যাণকামিতা।
বিশেষভাবে দাম্পত্য জীবন নিয়ে আলোচনাগুলো অত্যন্ত শিক্ষণীয়। একটি ঘরে কেন অশান্তি সৃষ্টি হয়, কীভাবে ছোট ছোট ভুল বোঝাবুঝি বড় দূরত্বে রূপ নেয়, আবার কীভাবে ভালোবাসা, সহনশীলতা ও দ্বীনদারির মাধ্যমে সেই ঘরকে শান্তির নীড়ে পরিণত করা যায় - এসব বিষয় অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একজন স্ত্রী কীভাবে স্বামীর হক আদায় করবেন, আবার একজন মা কীভাবে সন্তানকে দ্বীনদার ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন - এসব বিষয়ে বইটি যেন এক নির্ভরযোগ্য পথনির্দেশক।
বর্তমান সমাজে নারীজীবনের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো দ্বীনী জ্ঞানের অভাব। অনেক মা-বোন বড় বড় কিতাবের জটিল ভাষা বুঝতে পারেন না। কিন্তু এই বইটির ভাষা সাবলীল, প্রাঞ্জল ও হৃদয়ছোঁয়া। ফলে একজন সাধারণ পাঠিকাও খুব সহজে উপকৃত হতে পারবেন। বিশেষত বইটির শেষাংশে “মা-বোনদের জরুরী কিছু মাসায়েল” শিরোনামে পবিত্রতা, নামায, রোযা, যাকাত, হজ্জ, পর্দা ও নারীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় বহু মাসআলার সংক্ষিপ্ত অথচ নির্ভুল আলোচনা সংযোজন করা হয়েছে, যা বইটিকে আরও কার্যকর ও উপকারী করে তুলেছে।
এই বইটি কেন প্রতিটি ঘরের মা-বোনদের পড়া উচিত
তার উত্তর লুকিয়ে আছে এর প্রতিটি পাতায়। দৈনন্দিন ব্যস্ততা, দুনিয়াবী চিন্তা ও গুনাহের প্রভাবে যখন হৃদয় কঠিন হয়ে যায়, তখন এই বইয়ের নসীহতগুলো অন্তরে এক পশলা রহমতের বৃষ্টির মতো প্রশান্তি এনে দেয়। একজন আদর্শ মা, আদর্শ স্ত্রী ও দ্বীনদার নারী হয়ে ওঠার জন্য যেসব গুণ ও আমল প্রয়োজন, তার বাস্তব শিক্ষা পাওয়া যায় এখানে।
আসুন, আমাদের ঘরের নারীদের কেবল দুনিয়াবী শিক্ষায় নয়; বরং দ্বীনী ফিকির, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহভীতির আলোয় আলোকিত করি। আজই তাঁদের হাতে তুলে দিই “মা-বোনদের ইসলাহী বয়ান”। হয়তো এই একটি বই বদলে দিতে পারে একটি পরিবার, একটি প্রজন্ম, এমনকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ। দুনিয়ার শান্তি ও আখিরাতের মুক্তির পথে এটি হতে পারে এক অনন্য গাইডলাইন।