ভাষান্তর : উস্তায আব্দুল্লাহিল মা’মুন
সম্পাদনা : আতিয়া আবেদীন নাবিলা, উস্তায আবুল হাসানাত কাসিম, আফিয়া আবেদীন সাওদা, উস্তায আব্দুল্লাহ মাহমুদ
পৃষ্ঠা: ৮৮ (পেপার ব্যাক কভার)
জিলহজ মাস। বছরের এক পবিত্র ও মহিমান্বিত মাস। আল্লাহর নবি ইবরাহিম আলাইহিস সালাম তখন মরুভূমির দেশ মক্কায়। একদিন স্বপ্নে তিনি আদিষ্ট হলেন প্রিয়তম পুত্র ইসমাইলকে কুরবানি করতে হবে। স্বপ্নের কথা নিদ্বির্ধায় জানালেন আদরের সেই পুত্রকে। পুত্রের মুখে স্মিত হাসি। আনন্দিত কণ্ঠে বলে উঠল সে, ‘বাবা, আল্লাহ আপনাকে যে হুকুম দিয়েছেন তা যথাযথভাবে পালন করুন। এ কাজে আপনি আমায় ধৈর্যশীল পাবেন।’
আমরা ধৈর্যের এক পরাকাষ্ঠা দেখতে পাই পিতা ও পুত্রের সেই ঘটনায় যা ইসলামের ইতিহাসে সুবিদিত হয়ে থাকবে চিরকাল। যদিও সেদিন ইসমাইল আলাইহিস সালামকে কুরবানি করতে হয়নি, তবে আল্লাহর নামে কুরবানি তথা পশু উৎসর্গের রেওয়াজ আমাদের ধর্ম ও সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেদিনের সেই পবিত্র ঘটনা ঘটেছিল বছরের পবিত্র মাস জিলহজে। তাই জিলহজের মাহাত্ম্য, গুরুত্ব আর ফজিলত মুসলিমদের কাছে অপরিসীম। আর এ মাসেই সারা পৃথিবীর মানুষ কাবা প্রাঙ্গণে জড়ো হয় হজ সম্পাদনে। লাখো লাখো মুসল্লি অবস্থান করে মিনায়, ছুটে বেড়ায় সাফা-মারওয়ায়, পাথর ছুঁড়ে মারে মুযদালিফায় এবং যিয়ারত করে পবিত্র মদিনা-মুনাওয়ারায়। আল্লাহর ঘর তাওয়াফের তৃষ্ণা যাদের অন্তরে জিইয়ে থাকে, যারা স্বপ্নের ডালা সাজিয়ে রাখে সারাটি বছর ধরে। কেবল একটি বার তারা কাবাঘরের কালো গিলাফটি ছুঁয়ে দেখতে চান। তাদের কাছে জিলহজ মাস এক স্বপ্নছোঁয়ার মাস।
এই পবিত্র জিলহজ মাসকে ঘিরে আছে কিছু নির্দিষ্ট আমল, নির্দিষ্ট কিছু রীতিনীতি। সেই আমল এবং রীতিগুলো পালনে আছে অপরিমেয় সাওয়াব। মানুষ যাতে করে আমলের মাধ্যমে সেই সাওয়াবগুলো অর্জন করতে পারে, সঠিকভাবে বুঝতে পারে জিলহজের মাহাত্ম্য, সেজন্যেই আমাদের এবারের আয়োজন জিলহজের উপহার।