বিয়ের আসরে কনের সাজে বসে আছে জোবায়দা।পরনে লাল বেনারসি।
গলায়-হাতে-কানে- নাকে নতুন গহনা।মাথায় টিকলিও আছে।প্রসাধনের চাকচিক্যে তাকে শাহজাদীর মতো লাগছে।সে বসে আছে একটা মখমলের বিছানায়। তাকে ঘিরে আছে বাহারি সাঁজের যুবতীরা।কলহাস্যে তারা তারা জোবায়দার রুপের প্রশংসা করছে।সারা বাড়িতে আলোকসজ্জা।
রঙিন আলোর বিন্দুগুলো জ্বলছে নিভছে।
আলো আঁধারির একটা গোলকধাঁধা যেন।উৎসবের আমেজে কোনো ঘাটতি নেই।
আজ জোবায়দার বিয়ে।
কেউ একজন এসে ঘোষণা দিল,নওশা আসছে। বরযাত্রী বেষ্টিত নওশা আসে।নওশাকে দেখা যাচ্ছে না। সামনের কিছু মানুষ সরে যেতেই একটা কফিন দেখা যায়।রঙ্গিন মকমকি কাগজে সাজানো কফিন।
বর্ণিল পোশাকের চারজন মানুষ কফিনটা বহন করছে। প্রথম দুজনের একজন তার চাচা লতিফ।বাকি দুজনকে সে চিনে না।
বাহিরে পোশাকও তাদের বিষন্ন দেখাচ্ছে।
তারা কফিনটা জোবায়দার সামনে নামিয়ে ভূমিতে রাখে।কফিনের দেয়ালে হেলান দিয়ে আধশোয়া হয়ে শেরওয়ানি পাগড়ি পড়া কুতসিত চেহারার হুমায়ুনকে দেখা যায়। হুমায়ুন অনেক কষ্টে কফিন থেকে বের হয়ে এসে জোবায়দার কাছে যেতে চায়।
ঠিক তখনই সাদা পোশাকের দ্যুতি বিকরিত চেহারার মাওলানা কে দেখা যায়।
বইঃ হ্যালো মাওলানা (সাড়া জাগানো উপন্যাস)
লেখকঃ মুহাম্মাদ ফজলুল হক
প্রকাশনায়ঃ আর রিহাব পাবলিকেশন্স