সৃষ্টির অপার এক বিস্ময় এই জীবজগৎ। কত শত কোটি জীব (উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব ইত্যাদি) এ বিশাল ও বৈচিত্র্যময় পৃথিবীর বুকে বিরাজ করছে, তা এখনও নির্ধারণের অপেক্ষায়। একসময় এ পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল এখনকার সময়ের চেয়ে নিতান্তই কম। তখন প্রাণিবৈচিত্র্যের প্রাচুর্য ছিল বেশি, ফলে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তাদের ব্যবহার ছিল অবাধ। কিন্তু বিংশ শতাব্দীতে এসে জানা গেল পৃথিবীর জনসংখ্যা ক্রমবৃদ্ধির সাথে সাথে প্রাণিবৈচিত্র্যের সম্পদ হ্রাস পাচ্ছে। এরপর থেকেই মানুষের মাঝে প্রাণিবৈচিত্র্য সংরক্ষণের সচেতনতা দেখা দেয়। প্রাণিবৈচিত্র্যকে সঠিক সংরক্ষণের জন্য আগে তাদের গঠন, প্রকৃতি ও জীবনবৃত্তান্ত ইত্যাদি জানা দরকার। আর এজন্য প্রয়োজন প্রাণিজগতের শ্রেণিবিন্যাস। প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসবিদগণ তিনটি প্রধান লক্ষ্য- প্রজাতি শনাক্তকরণ, প্রাণীদের মধ্যে বিবর্তনীয় সম্পর্ক ও ধরন অনুযায়ী শ্রেণিভুক্তিকে সামনে রেখে শ্রেণিবিন্যাস করে থাকেন। এই অধ্যায়ে প্রাণিজগতের বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাসের ধারণা দেওয়া হয়েছে।